স্বরধ্বনির উচ্চারণ (২.২)

ষষ্ঠ শ্রেণি (মাধ্যমিক) - বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি - ক. ব্যাকরণ | NCTB BOOK
2.5k

স্বরধ্বনির উচ্চারণে তিনটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো হলো জিভের উচ্চতা, জিভের অবস্থান ও ঠোঁটের আকৃতি। এ ছাড়া আরও একটি বিষয়কে গুরুত্ব দিতে হয়, তা হলো কোমল তালুর অবস্থা। কোমল তালুর অবস্থা অনুযায়ী স্বরধ্বনিগুলোকে মৌখিক ও অনুনাসিক স্বরধ্বনি হিসেবে উচ্চারণ করতে হয়।

Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

জিভের অবস্থা (২.২.১)

501

জিভের যে-অংশের সাহায্যে স্বরধ্বনি উচ্চারিত হয়, সেই অংশকে গুরুত্ব দিয়ে স্বরধ্বনিগুলোকে যথাক্রমে (ক) সম্মুখ, (খ) মধ্য ও (গ) পশ্চাৎ ধ্বনি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

ক) সম্মুখ স্বরধ্বনি: জিভের সামনের অংশের সাহায্যে উচ্চারিত স্বরধ্বনিগুলো হলো সম্মুখ স্বরধ্বনি। ই, এ, অ্যা স্বর এজাতীয়।
খ) মধ্য-স্বরধ্বনি: জিভ স্বাভাবিক অবস্থায় থেকে অর্থাৎ, সামনে কিংবা পেছনে না-সরে যেসব স্বরধ্বনি উচ্চারিত হয়, সেগুলো হলো মধ্য-স্বরধ্বনি। আ স্বরধ্বনি এ-শ্রেণির।
গ) পশ্চাৎ স্বরধ্বনি: এজাতীয় স্বরধ্বনিগুলো জিভের পেছনের অংশের সাহায্যে উচ্চারণ করতে হয়। যেমন- অ, ও, উ।

Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

মধ্য স্বরধ্বনি
পশ্চাৎ স্বরধ্বনি
উচ্চ-মধ্য স্বরধ্বনি
সম্মুখ স্বরধ্বনি
উচ্চ স্বরধ্বনি
সম্মুখ স্বরধ্বনি
পশ্চাৎ স্বরধ্বনি
মধ্য স্বরধ্বনি

জিভের উচ্চতা (২.২.২)

1k

জিভের উচ্চতা অনুসারে স্বরধ্বনিগুলোকে (ক) উচ্চ, (খ) নিম্ন, (গ) উচ্চ-মধ্য ও (ঘ) নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি হিসেবে নির্দেশ করা হয়।

ক) উচ্চ-স্বরধ্বনি: এগুলোর উচ্চারণের সময় জিভ সবচেয়ে উপরে ওঠে। যেমন- ই, উ।
খ) নিম্ন-স্বরধ্বনি: জিভ সবচেয়ে নিচে অবস্থান করে এসব স্বরধ্বনি উচ্চারিত হয়। আ, এ এ-শ্রেণির ধ্বনির দৃষ্টান্ত।
গ) উচ্চ-মধ্য স্বরধ্বনি: এজাতীয় স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় জিভ নিম্ন-স্বরধ্বনির তুলনায় উপরে এবং উচ্চ-স্বরধ্বনির তুলনায় নিচে থাকে। যেমন- এ, ও।
ঘ) নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি: এসব স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় জিভ উচ্চ-মধ্য স্বরধ্বনির তুলনায় নিচে এবং নিম্ন-স্বরধ্বনি থেকে উপরে ওঠে। যেমন- অ্যা, ও।

Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

উচ্চ-মধ্য স্বরধ্বনি
নিম্ন-স্বরধ্বনি
উচ্চ স্বরধ্বনি
নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি
উচ্চ-মধ্য স্বরধ্বনি
নিম্ন-স্বরধ্বনি
উচ্চ স্বরধ্বনি
নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি

ঠোঁটের অবস্থা (২.২.৩)

1.2k

ঠোঁটের অবস্থা অনুযায়ী স্বরধ্বনিগুলোর উচ্চারণে দু-ধরনের বৈশিষ্ট্য লক্ষ করা যায়- ঠোঁট গোলাকৃত অথবা অগোলাকৃত অবস্থায় থাকতে পারে। ঠোঁটের এইসব অবস্থাভেদে স্বরধ্বনিগুলোকে গোলাকৃতঅগোলাকৃত স্বরধ্বনি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যেসব স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় ঠোঁট গোলাকৃত হয়, সেই স্বরধ্বনিগুলোই হলো গোলাকৃত স্বরধ্বনি। যেমন- অ, ও, উ। অন্যদিকে যেসব স্বরধ্বনির উচ্চারণে ঠোঁট গোল না-হয়ে বিস্তৃত অবস্থায় থাকে, সেগুলোই হলো অগোলাকৃত স্বরধ্বনি। যেমন- ই, এ, অ্যা।

Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

হ্রস্ব ও দীর্ঘ স্বর (২.২.৪)

1k

বিশ্বের বহু ভাষায় একই স্বরধ্বনির দুটি উপলব্ধি আছে। উচ্চারণকালে কিছু স্বরধ্বনি স্বল্পকাল স্থায়ী হয়, সে-তুলনায় অন্যগুলো অধিক সময় স্থায়ী হয়। দীর্ঘস্বর উচ্চারণের সময় আরও দুটি দিক খেয়াল করতে হবে- (ক) নিচের চোয়ালের মাংসপেশিতে বেশি চাপ পড়বে এবং (খ) মুখ দিয়ে হ্রস্ব স্বরের তুলনায় অধিক বাতাস বের হবে। স্বরের হ্রস্ব-দীর্ঘ উচ্চারণভেদে দুটি ভিন্ন অর্থবোধক শব্দ তৈরি হয়। যেমন- ইংরেজি bit ও beat শব্দের উচ্চারণ। প্রথম শব্দের ই-ধ্বনি হ্রস্ব (i) আর দ্বিতীয় শব্দের ই দীর্ঘ (i) এবং এই দুই স্বর উচ্চারণের কারণে ইংরেজিতে দুটি ভিন্ন অর্থবাহী শব্দ তৈরি হয়েছে।

বাংলা ভাষার সব স্বরই হ্রস্ব; কিন্তু আমাদের লিখিত ভাষায় কিছু দীর্ঘ বর্ণ রয়েছে। আমরা লিখি 'নদী', 'তরী' ইত্যাদি। এসব শব্দের স্বরের দীর্ঘ উচ্চারণ হয়তো করা যায়, কিন্তু তাতে দুটি ভিন্ন অর্থবাহী শব্দ তৈরি হয় না। অর্থাৎ লিখিত ভাষায় যা-ই থাকুক, আমাদের সব স্বরই হ্রস্ব।

Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

কোমল তালুর অবস্থা (২.২.৫)

1.3k

মৌখিক স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় বাতাস কেবল মুখ দিয়ে আর অনুনাসিক স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় বাতাস একই সঙ্গে মুখ ও নাক দিয়ে বের হয়। জানা দরকার, কীভাবে বাতাস কখনো মুখ, এবং কখনো নাক ও মুখ দিয়ে একসঙ্গে বের হয়। আমাদের মুখের উপরে রয়েছে তালু। এটি দেখতে অনেকটা গম্বুজ-আকৃতির। এই তালুর সামনের অংশ শক্ত কিন্তু পেছনের অংশ নরম। বোঝাই যাচ্ছে যে, শক্ত প্রত্যঙ্গ স্থির, তা নড়াচড়া করতে পারে না। সে-ক্ষমতা আছে কেবল নরম অংশের। নরম বলেই তালুর পেছনের অংশকে বলে কোমল তালু। এ-তালুকে আমরা উপরে ওঠাতে পারি আবার নিচে নামাতে পারি। মৌখিক স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় তা উপরে উঠে গিয়ে নাক দিয়ে বাতাস বেরোনোর পথ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়।

অনুনাসিক স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় কোমল তালু নিচে নেমে যায়। এটি তখন এমন অবস্থায় থাকে যে, বাতাস একই সঙ্গে মুখ ও নাক দিয়ে বের হতে পারে। এভাবে উচ্চারিত স্বরধ্বনিগুলোই হলো অনুনাসিক স্বরধ্বনি। বাতাস বের হওয়ার এই দুই ধরন অনুসারে স্বরধ্বনিগুলোকে ভাগ করা হয়েছে মৌখিক ও অনুনাসিক স্বরধ্বনি হিসেবে। মৌখিক স্বরের অনুনাসিক উচ্চারণ হলে শব্দের অর্থ বদলে যাবে। বাংলা মৌখিক স্বরধ্বনি সাতটি, অনুনাসিক স্বরধ্বনিও সাতটি। নিচের সারণিতে মৌখিক ও অনুনাসিক
স্বরধ্বনিগুলো উল্লেখ করা হলো:

সারণি-০১: বাংলা মৌখিক ও অনুনাসিক স্বরধ্বনির তালিকা

Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

উচ্চ-মধ্য স্বরধ্বনি
অনুনাসিক স্বরধ্বনি
মৌখিক স্বরধ্বনি
নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি
Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...